নেদারল্যান্ডসের শহর রটারডামে বড় একটি বায়োফুয়েল প্লান্টের নির্মাণকাজ বাতিল করেছে জ্বালানি তেল কোম্পানি শেল। এটি নির্মিত হলে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বর্জ্য থেকে গ্রিন জেট ফুয়েল উৎপাদনকারী কেন্দ্র হতো শহরটি। গত বছরের জুলাইয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নির্মাণকাজ স্থগিত করার পর প্রকল্পটি পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্তে এসেছে শেল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সাশ্রয়ী ও কম কার্বনযুক্ত পণ্য উৎপাদনের চাহিদার সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য এটি যথেষ্ট লাভজনক নয়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বিশ্লেষকরা রটারডামের প্রকল্পটি বাতিল করা শেলের জন্য বায়োফুয়েল সংক্রান্ত আরেকটি বড় ধাক্কা। এর আগে ২০২৩ সালে মার্চে সিঙ্গাপুরের বুকম দ্বীপে একটি টেকসই উড়োজাহাজ জ্বালানি (এসএএফ) প্রকল্পও বাতিল করেছিল কোম্পানিটি। লাভজনকতা কমে আসায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে সরে এসে অধিক লাভজনক জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। এর বড় একটি উদাহরণ এ ঘটনা। গত বছর একটি প্রধান নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করে শেল। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার ২০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৫-২০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে জ্বালানি তেল কোম্পানিটি।
প্লান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। তখন শেলের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৪ সালের এপ্রিল নাগাদ এটি থেকে প্রতি বছর ৮ লাখ ২০ হাজার টন বায়োফুয়েল উৎপাদন শুরু হবে। পরে সে সময়সীমা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
কোম্পানিটির ডাউনস্ট্রিম, রিনিউয়েবলস অ্যান্ড এনার্জি সলিউশনস বিভাগের প্রধান মাখটেল্ড ডে হান বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতি ও প্রকল্পের সমাপ্তি খরচ মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, আমাদের গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও কম কার্বনযুক্ত পণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য প্রকল্পটি যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক নয়। কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ আমরা সেসব প্রকল্পে আমাদের মূলধনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যা গ্রাহকের চাহিদা ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করে।’